চাকমা ভাষায় নির্মিত হলো চলচ্চিত্র ‘পোড়া কবাল্লে’

মোঃ আশিকুর রহমান
ডিসেম্বর ২৮, ২০২২

Share Now

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা জনগোষ্ঠীর ভাষায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পোড়া কবাল্লে’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে শুক্রবার (৬ জানুয়ারি)। রাঙামাটির স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হিলর প্রোডাকশন’র ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নতুন বছরের চমক নিয়ে এসেছে চাকমা ভাষায় ‘পোড়া কবাল্লে’। হিলর প্রোডাকশন নামের সাংস্কৃতিক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উন্মোচন এবং হিলর প্রোডাকশন’র নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে ‘পোড়া কবাল্লে’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি। বাংলা ভাষায় ‘পোড়া কবাল্লে’র অর্থ হলো পোড়া কপাল।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি অধিবাসীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও রক্ষার ব্রত নিয়ে ২০১৭ সালে ‘হিলর প্রোডাকশন’ এর পদযাত্রা শুরু হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা সুপ্রিয় চাকমার পরিচালনায় এরআগেও দাভা টেঙা, স্ববনত তুই, চাগুরি, ম মনান হিঙিরী বুঝেম, মানেয় জনম, আক্কল, জিত্তো’সহ চাকমা ভাষায় মোট ১৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এবারের চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুমন চাকমা, জেনি চাকমা, সাধন চাকমা, অমল চাকমা, সুদীপ্তা চাকমা, নিপা চাকমা ও এলিন চাকমা।

অভিনয়শিল্পী সাধন চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন হিলর প্রোডাকশনের মাধ্যেমে চাগুরী, পোড়া কবাল্লে ও স্ববনত তুই নামক তিনটি চাকমা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। নায়ক ও নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করা সুমন চাকমা ও জেনির চাকমা জানান, পর্দা উন্মোচনের মাধ্যেমে ‘পোড়া কবাল্লে’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। নিজস্ব উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মুক্তি হয়েছে। হিলর প্রোডাকশনের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন লক্ষ্যে মুক্তি পেতে যাচ্ছে চাকমা ভাষার চলচ্চিত্র পোড়া কবাল্লে। আমরা আশারাখি, এ চলচ্চিত্রটিও দর্শকদের ভালো লাগবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তরুণ নির্মাতা সুপ্রিয় চাকমা বলেন, ‘পোড়া কবাল্লে চলচ্চিত্রে মদ্যপান (মাদক) ও চাকরি এ দুইটি বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মদ্যপান করে সংসারে অশান্তির তৈরি করেন নায়কের বাবা। পরে এই যাতনা থেকে মুক্তি পেতে নায়কের মা আত্মহত্যা করেন। বাড়ি ছেড়ে চলে যায় নায়ক। অনেক প্রতিকূলতার মাঝে বড় হয়ে চাকরি না হওয়ার কারণে প্রেমিকাকে হারান। চাকমা জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনে মাদক আর চাকরি এই দুটোই বর্তমান সময়ে নানান প্রতিকূলতার সৃষ্টি করে আর এসব বিষয়গুলো চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে চাকমা ভাষায় নির্মাণের মধ্যদিয়ে।’

সুপ্রিয় আরও জানান, হিলর প্রোডাকশনের প্রযোজনায় ১৩টির অধিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্রগুলো নিজস্ব উদ্যোগ এবং অর্থে নির্মাণ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী স্থানীয় জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংস্কৃতিখাতে পৃষ্ঠপোষকতার কথা থাকলেও আমরা কখনোই কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে দেখিনি। তবে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে যদি পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের জীবন, সমাজ, সংস্কৃতি নিয়ে ভিডিওচিত্র নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করা যেতে তাহলে দেশের মানুষের মাঝে আদিবাসীদের জীবনধারা নিয়ে স্পষ্ট জানাশোনা থাকত।