চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে ৪১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ হার ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। তবে এ সময়ে শহর ও গ্রামে করোনায় আক্রান্ত কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জেলার করোনা সংক্রান্ত হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে আজ পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডি, নগরীর ৯ ল্যাবরেটরি ও এন্টিজেন টেস্টে  গতকাল রোববার ২৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নতুন শনাক্তদের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৩০ জন ও আট উপজেলার ১১ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে ফটিকছড়ি, পটিয়া ও বোয়ালখালীতে ২ জন করে এবং রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সীতাকু-, মিরসরাই ও চন্দনাইশে একজন করে রয়েছেন।

জেলায় করোনাভাইরাসে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯ জন। এদের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৯৩ হাজার ৩৪০ জন ও গ্রামের ৩৪ হাজার ৭৩৯ জন। গতকাল করোনায় শহর ও গ্রামে কোনো রোগির মৃত্যু হয়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬৬ জন রয়েছে। এতে শহরের বাসিন্দা ৭৩৬ জন ও গ্রামের ৬৩০ জন। 

ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, বেসরকারি এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতাল ল্যাবে গতকাল সবচেয়ে বেশি ৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এখানে শহরের ৪ ও গ্রামের ৩ জনের পজিটিভ রেজাল্ট আসে। 

ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় শহরের ৭ জন জীবাণুবাহক পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (চমেকহা) ল্যাবে ৩১ জনের নমুনার মধ্যে শহরের ৫ ও গ্রামের ৪ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন। আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল-এ পরীক্ষা করা ৪ টি নমুনার একটিতেও করোনাভাইরাস মিলেনি। নমুনা সংগ্রহের বিভিন্ন কেন্দ্রে ৩৫ জনের এন্টিজেন টেস্ট করা হলে গ্রামের ২ জন সংক্রমিত বলে জানানো হয়।

বেসরকারি ল্যাবরেটরির মধ্যে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ১৬ জনের নমুনায় শহরের ৪ ও গ্রামের একজনের দেহে করোনার জীবাণু শনাক্ত হয়। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ১২ নমুনায় শহরের ২ টিতে ভাইরাসের উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ৩৪ নমুনার মধ্যে শহরের ১ টি জীবাণু থাকার প্রমাণ মিলে। এপিক হেলথ কেয়ারে ২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে শহরের ৪ ও গ্রামের একজন আক্রান্ত পাওয়া যায়। মেট্রো পলিটন হাসপাতাল ল্যাবে ১৬ নমুনার মধ্যে শহরের ১ টিতে ভাইরাস শনাক্ত হয়। এভারকেয়ার হসপিটাল ল্যাবে পরীক্ষিত ১০ নমুনায় শহরের ২ টিতে সংক্রমণ ধরা পড়ে। 

এদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, শেভরন, ল্যাব এইড ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ল্যাবে কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি। চট্টগ্রামের কোনো নমুনা কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে যায়নি।

ল্যাবভিত্তিক গতকালের রিপোর্ট পর্যবেক্ষণে সংক্রমণ হার পাওয়া যায়, এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বিআইটিআইডি’তে ৪১ দশমিক ১৭, চমেকহা’য় ২৯ দশমিক ০৩, আরটিআরএলে ০, এন্টিজেন টেস্টে ৫ দশমিক ৭১, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৩১ দশমিক ২৫, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ১৬ দশমিক ৬৬, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ২ দশমিক ৯৪, এপিক হেলথ কেয়ারে ১৮ দশমিক ৫২, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৬ দশমিক ২৫ এবং এভারকেয়ার হসপিটাল ল্যাবে ২০ শতাংশ।